পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা কর্মী সংকট মেটাতে একলপ্তে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।
বুধবার সল্টলেকের পঞ্চায়েত ভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েত দফতরে মোট ৭,১৯০টি শূন্যপদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হবে। এর পাশাপাশি কাজের গতি বজায় রাখতে আরও ১,০০০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মীও নেওয়া হবে।
সল্টলেকের এই বৈঠকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক (DM) এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকরা (BDO) উপস্থিত ছিলেন। ১২৫ দিনের কাজ, গ্রামীণ আবাস যোজনা সহ একাধিক গ্রামীণ প্রকল্পের কাজ কীভাবে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েই বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নিয়মে বড় বদল
আগের একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার পর এবার যাতে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা না থাকে, তার জন্য নিয়োগ বিধিতে বড়সড় রদবদল আনা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, “সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭,১৯০ জনের নিয়োগ হবে। দীপাবলির পরই নিয়োগের পুরনো নিয়মে বদল আনা হবে।”
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা স্তরের বদলে এবার হয়তো পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)-র মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হতে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যেই এই স্থায়ী পদের নিয়োগ শেষ করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মহিলাদের মাসে ৭০০০ টাকা রোজগারের সুযোগ দিচ্ছে LIC, গ্রামে থাকলে আগে সুযোগ
এই নিয়োগের কারণে কী কী সুফল মিলবে?
পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনিয়ার, ক্লার্ক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মীর পদ ফাঁকা পড়ে থাকার কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জলের প্রকল্প এবং আবাস যোজনার মতো কাজগুলি ব্যাহত হচ্ছিল। দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও আগেই কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। এই ৭,১৯০ জন স্থায়ী কর্মী এবং ১,০০০ চুক্তিভিত্তিক কর্মী যোগ দিলে:
গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের গতি অনেকটাই বাড়বে।
সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিস থেকে আরও দ্রুত ও সহজে সরকারি পরিষেবা পাবেন।
রাজ্যের কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
