পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ছুটিতে বড়সড় নিয়মের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। সরকারি দফতরে বকেয়া কাজের পাহাড় কমাতে এবং কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারি ছুটির তালিকায় বড়সড় কাটছাঁট করতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কর্মচারীদের বাৎসরিক ছুটি কমিয়ে বছরে মাত্র ৪০ দিনে নামিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থসচিবকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
কেন ছুটি কমানোর এই বড় সিদ্ধান্ত?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি দফতরগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর কাজ বকেয়া পড়ে রয়েছে। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরকারি পরিষেবা দিতে হলে প্রশাসনে কাজের পরিবেশ ও কাজের গতি ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই কর্মসংস্কৃতি বদলানোর লক্ষ্যেই ছুটির সংখ্যায় রাশ টানার কথা ভাবা হয়েছে।
বছরে কত দিনের ছুটি রাখা হচ্ছে?
চলতি বছরে রাজ্যে সরকারি ছুটির সংখ্যা প্রায় ৫০ দিন। এই তালিকা ছোট করার জন্য অর্থসচিবকে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশ অনুযায়ী অর্থসচিব প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ দিনের একটি ছুটির তালিকা তৈরি করে জমা দেন। কিন্তু সেই তালিকায় আরও কাটছাঁট করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা কমিয়ে চূড়ান্তভাবে ৪০ দিনে নিয়ে আসতে হবে।
কোন কোন ছুটি বাদ পড়তে পারে?
তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ছুটির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছিল। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব, মনীষীদের জন্মদিবস এবং জামাইষষ্ঠীর মতো দিনেও হাফ-ছুটি সহ একাধিক বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হতো।
পালাবদলের পর নতুন সরকার সেই অতিরিক্ত ছুটির বহর কমাতে চাইছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় ঠিক কোন কোন উৎসব বা পার্বণের ছুটি বাদ পড়তে চলেছে, সে বিষয়ে এদিন বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অর্থসচিবের চূড়ান্ত সংশোধনের পরই এই তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা প্রকল্পে কার না থাকবে আর কার থাকবে না? আজই তা ঠিক হবে
ছুটির পাশাপাশি রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত কোনও কর না বসিয়েই নতুন সরকার প্রথম ৬ মাসে আগের সরকারের পুরো আর্থিক বছরের চেয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেছে।
