পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বিরাট নির্দেশ দিল নবান্ন। বহু মহিলার অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের সমস্ত শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও তাঁদের আবেদন আটকে রয়েছে কিংবা অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের ৩,০০০ টাকা ঢুকছে না। এই জটিলতা কাটাতেই এবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এক কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের (DM) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৫ নভেম্বরের মধ্যেই উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে কী নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন?
নবান্নের পক্ষ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকায় সমস্ত জেলাশাসকদের উদ্দেশে জানানো হয়েছে—
গত অক্টোবর মাসে যে সমস্ত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা সফলভাবে পৌঁছেছে, তাঁদের তালিকা স্থানীয় প্রশাসনিক যাচাইকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় থাকা প্রতিটি নাম ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দ্রুত স্ক্রুটিনি ও পুনঃযাচাই (Re-verification) করতে হবে।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থাৎ ৫ নভেম্বরের মধ্যেই যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা আলাদা করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা কারা পাবেন আর কাদের নাম বাদ যাবে?
এই চূড়ান্ত যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন:
১. প্রকৃত যোগ্যরা যেন বঞ্চিত না হন: কোনো কারণে যাঁদের আবেদন ‘Under Process’ বা ‘Further Verification’ স্ট্যাটাসে আটকে ছিল, তাঁদের নথিপত্র ঠিক থাকলে এই চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বকেয়া অর্থ ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
২. অযোগ্যদের নাম ছাঁটাই: স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত সরকারি পেনশন প্রাপক, আয়কর প্রদানকারী কিংবা ভুয়ো তথ্য দিয়ে আবেদনকারীদের নাম সরাসরি এই তালিকা থেকে বাতিল করা হবে।
অন্নপূর্ণা প্রকল্পে বেড়েছে সুবিধাভোগীর সংখ্যা
প্রথমে মাত্র ৫০ লক্ষ উপভোক্তাকে নিয়ে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে যাচাই করে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ করা হয় এবং গত দুর্গাপূজার সময়ে প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আধার কার্ড দিয়ে আর কাজ হবে না! এখন সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে এইগুলি লাগবে
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের একজনও প্রকৃত যোগ্য মহিলা যাতে এই সহায়তা থেকে বাদ না পড়েন, সেই কারণেই দ্রুত এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি নভেম্বর মাসের কিস্তির টাকা ছাড়ার পথও সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাবে।
