SBI, PNB, BOB ব্যাংকে মিনিমাম ব্যালেন্সের নতুন নিয়ম! না জানলে কাটা যাবে টাকা

ভারতের শীর্ষ সরকারি ব্যাঙ্কগুলি—State Bank of India (SBI), Punjab National Bank (PNB) এবং Bank of Baroda (BOB)—২০২৬ সালের জন্য সেভিংস অ্যাকাউন্টের ন্যূনতম ব্যালেন্স সংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার নিয়ম নতুন নয়, তবে এবারের সংশোধনে শাখার অবস্থান, অ্যাকাউন্টের ধরন এবং ডিজিটাল ব্যবহারের ভিত্তিতে আলাদা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট ও ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অপারেশনাল খরচ সামলানো এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বজায় রাখাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।

একই ব্যাঙ্কে ভিন্ন নিয়ম! লোকেশনভেদে বদলাচ্ছে ব্যালেন্স সীমা

এখন আর একই ব্যাঙ্কে সব গ্রাহকের জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

  • মেট্রো শাখা
  • শহরাঞ্চল (Urban)
  • সেমি-আরবান
  • গ্রামীণ শাখা (Rural)

এই শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী ন্যূনতম গড় ব্যালেন্স (Minimum Average Balance) আলাদা হবে।

সাধারণভাবে দেখা যাচ্ছে, মেট্রো ও বড় শহরের শাখায় ন্যূনতম ব্যালেন্সের সীমা বেশি। কারণ সেখানে অবকাঠামো, কর্মীসংখ্যা এবং লেনদেনের পরিমাণ বেশি থাকে।

যদি কেউ ছোট শহর থেকে মেট্রো এলাকায় স্থানান্তরিত হন, তাহলে অ্যাকাউন্টের ধরন একই থাকলেও প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স বেড়ে যেতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই শ্রেণিবিভাগ গ্রাহকের ঠিকানার উপর নয়, বরং শাখার কোডের উপর নির্ভর করে।

গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিজ শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখলে কত জরিমানা?

নির্ধারিত ব্যালেন্স বজায় না রাখলে জরিমানা (Penalty Charge) প্রযোজ্য থাকবে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে—

  • নির্ধারিত ব্যালেন্সের তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ
  • কতবার নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে
  • অ্যাকাউন্টের ধরন

কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দশ টাকা, আবার বড় ঘাটতিতে কয়েকশো টাকাও কাটা যেতে পারে।

ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পদ্ধতি শাস্তিমূলক নয়, বরং ধাপে ধাপে (graded) জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে। তবে টানা কয়েক মাস ঘাটতি থাকলে পেনশনভোগী বা কম আয়ের পরিবারগুলির অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।


জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে সতর্কতা

Basic Savings Bank Deposit Account (BSBDA), কিছু সরকারি স্কিম-সংযুক্ত অ্যাকাউন্ট এবং বহু কর্পোরেট স্যালারি অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্সের বাধ্যবাধকতা থাকে না।

এই সুবিধা বিশেষত—

  • ছাত্রছাত্রী
  • পেনশনভোগী
  • অনিয়মিত আয়ের ব্যক্তি

দের জন্য চালু করা হয়েছিল।

তবে বড় সমস্যা দেখা দেয় যখন যোগ্যতার শর্ত বদলে যায়। যেমন—
কোনও কর্মী চাকরি বদলের পর স্যালারি ক্রেডিট বন্ধ হলে, তার জিরো ব্যালেন্স স্যালারি অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হতে পারে। তখন নিয়মিত ন্যূনতম ব্যালেন্স প্রযোজ্য হয় এবং গ্রাহক স্টেটমেন্টে টাকা কাটা দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন।


মোবাইল অ্যাপেই দেখা যাবে ঘাটতি ও চার্জ

সরকারি ব্যাঙ্কগুলি এখন মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ ও SMS অ্যালার্ট সিস্টেম অনেক উন্নত করেছে।

এখন গ্রাহকরা দেখতে পারবেন—

  • ন্যূনতম ব্যালেন্সের প্রয়োজনীয়তা
  • বর্তমান ঘাটতির পরিমাণ
  • সম্ভাব্য জরিমানা

অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা কাটার আগেই প্রি-ডিডাকশন অ্যালার্ট পাঠানো হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের পরামর্শ—নির্ধারিত সীমার একটু বেশি টাকা রেখে দেওয়া ভালো, যাতে বিমা প্রিমিয়াম বা ইউটিলিটি বিলের মতো অটো-ডেবিটে ব্যালেন্স কমে গিয়ে জরিমানা না কাটা হয়। তবে গ্রামীণ অঞ্চলে ডিজিটাল অ্যাক্সেস সীমিত হওয়ায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং এখনও চ্যালেঞ্জ।


২০২৬ সালে কেন কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে ব্যাঙ্ক?

ব্যাঙ্কগুলির প্রযুক্তি বিনিয়োগ, সাইবার সিকিউরিটি খরচ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম মেনে চলার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কম ব্যালেন্স বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টও ব্যাকএন্ড পর্যায়ে মনিটরিংয়ের আওতায় রাখতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত ব্যালেন্স বজায় রাখতে উৎসাহ দিলে অপারেশনাল খরচ সামলানো সহজ হয় এবং পরিষেবা ফি তুলনামূলকভাবে কম রাখা যায়।

দশ বছর আগের তুলনায় এখন নিয়ম অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও মানক (standardised)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে জিরো ব্যালেন্স বিকল্পও চালু রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ঢুকতে চলেছে যুব সাথীর প্রথম ১৫০০ টাকা? ফাইনাল হলো তারিখ


জরিমানা এড়াতে কী করবেন?

  • একাধিক ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকলে নিয়মিত পর্যালোচনা করুন
  • অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা একীভূত করুন
  • প্রয়োজন হলে বেসিক সেভিংস ভ্যারিয়েন্টে রূপান্তর করুন
  • ঠিকানা পরিবর্তন, অবসর বা চাকরি বদলের পর শর্ত যাচাই করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরিমানা হয় নিয়ম কঠোর হওয়ার জন্য নয়, বরং গ্রাহকের অজ্ঞতার কারণে। ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিবেশে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

Leave a Comment