চাকরিজীবনের অবসান মানেই যেন চিন্তার পাহাড় জমে। কারণ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় মাসিক বেতন, অথচ সংসারের খরচ, ওষুধপত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা, কোনো কিছুই থামে না। আর এই পরিস্থিতি বেশিরভাগ অবসরপ্রাপ্ত মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প খোঁজে, যেখানে নিয়মিত রিটার্ন পাওয়া যায়।
ঠিক তেমনই একটি নির্ভরযোগ্য স্কিম হল পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম। কারণ সরকারের এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে অবসরের পর প্রতি মাসেই নাকি ২০,৫০০ টাকা করে হাতে আসবে।
কীভাবে কাজ করে এই স্কিম?
জানা যাচ্ছে, এই স্কিমে আপনি সর্বাধিক ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত একবারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। বর্তমানে এই স্কিমে ৮.২% হারে সুদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, যদি কেউ পুরো ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে, তাহলে বছরে তিনি ২,৪৬,০০০ টাকা সুদ পাবে।
উল্লেখ্য, এখানে প্রতি ত্রৈমাসিকে সুদ জমা হয়। অর্থাৎ, প্রতি তিন মাসে ৬১,৫০০ টাকা করে সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। গড়ে ধরলে তা প্রতি মাসে ২০,৫০০ টাকা দাঁড়াচ্ছে।
স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা এই স্কিম
এই স্কিমের সবথেকে বড় সুবিধা হল নিরাপত্তা। কারণ যেহেতু এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সেভিংস প্রকল্প, তাই এখানে টাকা নিয়ে কোনোরকম ঝুঁকির প্রয়োজন নেই। বরং অবসরের পর স্থিতিশীল আয়ের জন্য এটি একেবারে সেরা বিকল্প হতে পারে।
এমনকি যদি আপনি ত্রৈমাসিকে সুদ তুলতে না চান, বরং জমতে দেন, তাহলে পাঁচ বছর শেষে সেই বিনিয়োগ আরো বড় অঙ্কে দাঁড়াবে। হ্যাঁ, প্রায় ৪২ লক্ষ টাকায় পরিণত হবে আপনার মূলধন।
কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন?
যেমনটা জানা যাচ্ছে, এই স্কিমে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিরাই একমাত্র বিনিয়োগ করতে পারবে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সরকারিভা বা বেসরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে বিনিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি এখানে স্বামী-স্ত্রী মিলে যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলারও সুবিধা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পুজোর আগেই সুখবর! ৩০০০ টাকা ভাতা বাড়ল রাজ্যের এইসব কর্মীদের
কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন?
এই স্কিমে যোগ দিতে গেলে অবশ্যই নিকটস্থ কোনো পোস্ট অফিসে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি দিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্ম জমা দিয়ে নথি যাচাই করার পর আপনার অ্যাকাউন্ট খুলে যাবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতি মাসে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হবে।