সম্প্রতি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিরাট বদল আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব থেকে হঠাৎ করেই ভারতের ব্যাংকে জমা পড়ছে কোটি কোটি টাকা (Remittance)। কিন্তু কেন? উঠছে নানা রকম প্রশ্ন। তবে এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা। চলুন জেনে নেওয়া যাক আজকের প্রতিবেদনে।
বাড়ছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স
মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীরা এই বিপুল অংকের টাকা দেশে পাঠাচ্ছে। আর এই টাকা পাঠানোর কারণ একটাই, রুপির মান দুর্বল হয়ে যাওয়া। আর সেই দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে তারা।
বলে রাখি, বর্তমানে এক দিরহাম’র মূল্যে ভারতীয় রুপিতে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩.৪৩ টাকা। একইভাবে সৌদি রিয়াল অনেকটাই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে একই অংকের বিদেশী মুদ্রা ভারতীয় টাকায় পাঠালে অনেকটাই লাভ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আর ব্যবহার করা যাবে না পুরনো OBC সার্টিফিকেট! এখনই বদলে ফেলুন, রইল আবেদন প্রক্রিয়া
রুপি দুর্বল হলেই প্রবাসীদের লাভ
সৌদি আরব বা দুবাইয়ের প্রবাসীরা যদি ভারতীয় বাজারে ১০০০ দিরহাম পাঠান, তাহলে তিনি দেশে পাচ্ছেন ২৩,৪৩০ টাকা। যেখানে আগে এই অংক হতো অনেকটাই কম। রুপির এই দরপতন কার্যত বোনাসের মতো হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের কাছে। তাই দেরি না করে যাদের হাতে টাকা আছে তারা খুব দ্রুত দেশে পাঠিয়ে ফেলছে। আর বিশেষ করে জুন মাসে রেমিটেন্সের সংখ্যা অনেক গুণ বেড়েছে।
প্রচলিত ধারা অনুযায়ী, জুন মাসে সাধারণত রেমিটেন্সের হার কমে যায়। কারণ একটি ছুটি, ঘোরাফেরা বা কেনাকাটার মাস জুন। তবে এবারের জুন মাস সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছে, ভারতীয় রুপি দুর্বল হওয়াতে ছবি পুরো উল্টে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য এখন উত্তপ্ত, তবুও অর্থ প্রবাহ না থেমে আরও দিনের পর দিন বাড়ছে।